Posts

Showing posts from September, 2026

ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের রানি ভিক্টোরিয়া মূর্তি: ঔপনিবেশিক ইতিহাস ও এক নেপথ্য কূটনীতি (Queen Victoria's Statue at the Indian Museum: Colonial History and Behind-the-Scenes Diplomacy)

Image
১৮১৪ সাল। কলকাতার চৌরঙ্গী অঞ্চলে যাত্রা শুরু করে এশিয়ার প্রাচীনতম এবং বৃহত্তম সংগ্রহশালা—ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম, যা সাধারণ মানুষের কাছে আজও স্রেফ 'জাদুঘর' নামেই বেশি পরিচিত। 'এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বেঙ্গল'-এর দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন ও উদ্যোগের ফসল হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানটি আত্মপ্রকাশ করে।  এই প্রতিষ্ঠানের পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন ডেনমার্কের বিশিষ্ট প্রকৃতিবিদ ও উদ্ভিদবিদ ডা. নাথানিয়েল ওয়ালিচ, যিনি এই জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম কিউরেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শুরুতে এশিয়াটিক সোসাইটির নিজস্ব ভবনেই এর সংগ্রহ ও প্রদর্শনী চলত। কিন্তু দিন যত এগোতে থাকে, ততই দুর্লভ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, জীবাশ্ম এবং শিল্পকর্মের ভাণ্ডার বাড়তে থাকে। ফলস্বরূপ, ১৮৭৮ সালে পার্ক স্ট্রিট ও চৌরঙ্গী রোডের সংযোগস্থলের এই বর্তমান সুবিশাল এবং দৃষ্টিনন্দন ভবনে জাদুঘরটিকে পাকাপাকিভাবে স্থানান্তরিত করা হয়। ব্রিটিশ স্থপতি ডব্লিউ. এল. গ্র্যানভিলের (W. L. Granville) চমৎকার নকশায় তৈরি ইতালীয় রেনেসাঁ ও নিও-ক্লাসিক্যাল শৈলীর এই ঐতিহ্যবাহী ভবনটি নিজেই ইতিহাসের এক জীবন্ত সাক্ষী। আমা...

চন্দননগরের জোড়া ঘাট : দুর্গাচরণ রক্ষিত ও চন্দননগরের গৌরবময় অতীত (The Twin Ghats of Chandannagar: Durgacharan Rakshit and the Glorious Past of Chandannagar)

Image
চন্দননগরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে গঙ্গা তীরবর্তী স্ট্র্যান্ড রোডে আজও সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক ‘জোড়া ঘাট’, যা স্থানীয়দের কাছে ‘রক্ষিত ঘাট’ নামেই বেশি পরিচিত। এই ঘাটটি কেবল একটি স্থাপত্য নয়, বরং এটি চন্দননগরের একটা আইকন। এই ঘাটকে জোড়া ঘাট বলা হয় কারণ এই ঐতিহাসিক ঘাটটির দুপাশে দুটি আলাদা সিঁড়ি বা ঘাট একসঙ্গে যুক্ত রয়েছে। মাঝখানে একটি সুদৃশ্য মণ্ডপ বা বসার স্থান রেখে এর দুই পাশে দুটি প্রতিসম ঘাট বা নামার পথ তৈরি করা হয়েছিল। ১৯২১ সালে এই ঘাটটি নির্মাণ করেছিলেন শ্যামাচরণ রক্ষিত, তাঁর পিতা দুর্গাচরণ রক্ষিতের স্মৃতির উদ্দেশ্যে। ঘাটের স্থাপত্যরীতিতে ভারতীয় এবং পাশ্চাত্য শৈলীর এক চমৎকার মেলবন্ধন লক্ষ্য করা যায়। এর বিশেষ আকর্ষণ হলো এর পীচ রঙের চাঁদোয়া বা ছাদ, যা দূর থেকেই পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এছাড়া ঘাটের সরু স্তম্ভ, ইউরোপীয় স্টাকো কারুকার্য এবং হাতি ও ফুলের সূক্ষ্ম মোটিফের ব্যবহার স্থাপত্যকলায় এক বিরল নান্দনিকতার পরিচয় বহন করে। চন্দননগরের আইকন হিসেবে পরিচিত এই জোড়া ঘাট আজও তার গরিমা ধরে রেখেছে। জোড়া ঘাটের নেপথ্যে থাকা মানুষটি অর্থাৎ দুর্গাচরণ রক্ষি...

বড়ো শীল বাড়ীর দুর্গাপুজো, চুঁচুড়া (হুগলি জেলা) Boro Sheel Bari Durga Puja, Chinsurah (Hooghly District)

Image
​বাংলার প্রাচীন জনপদ চুঁচুড়ার মাটিতে কান পাতলে শোনা যায় শতবর্ষের নানা অজানা গল্প। এই ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায় জুড়ে রয়েছে শীলবাড়ির নাম। চৈতন্য শীলের অধস্তন ষষ্ঠ পুরুষ ছিলেন বিচক্ষণ নীলাম্বর শীল। অষ্টাদশ শতকে বর্গী ও ইংরেজদের রক্তচক্ষু এবং নানামুখী অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচতে তিনি পরিবার নিয়ে আশ্রয় নেন তৎকালীন ওলন্দাজদের গুস্তাফ দুর্গের প্রাচীরঘেরা নিরাপদ চুঁচুড়া শহরে। ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায় এখানেই; বাণিজ্যলক্ষী সদয় হন নীলাম্বরের ওপর। চুঁচুড়াতে পা রেখেই তিনি ও তাঁর বড় ছেলে জগমোহন শুরু করেন সরাফি ও মহাজনী কারবার। এই শহরেই গড়ে ওঠে তাঁদের মূল সরাফি কুঠি। ​চুঁচুড়ার এই কুঠিকে ‘হেড অফিস’ বা প্রধান কার্যালয় হিসেবে রেখেই বাংলাজুড়ে ব্যবসার জাল বিস্তার করেন তাঁরা। একে একে কলকাতা, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, কালনা, কাটোয়া, খিরপাই ও সুধাসাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্রে গড়ে ওঠে নীলাম্বর শীলের একাধিক সরাফি শাখা বা কুঠি। এই সমস্ত কেন্দ্র থেকে প্রধানত হুন্ডির কাজ এবং বিভিন্ন ধরনের সোনা ও রূপোর মুদ্রা বিনিময়ের কারবার চালানো হতো। দূর-দূরান্তে এক কুঠির টাকা নিরাপদে অন্য কুঠিতে স্থানান্তরের জন্য নীলাম্বরের...

নৃত্যগোপাল স্মৃতিমন্দির ও চন্দননগর পুস্তকাগার: চন্দননগর হুগলি (Nrityagopal Smritimandir and Chandannagar Pustakagar, Chandannagar, Hooghly)

Image
চন্দননগর বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ফরাসি আমলের সেই স্নিগ্ধ আবেশ, গঙ্গা আর ইতিহাসের মিশেল। এই শহরের সাংস্কৃতিক মানচিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হলো ‘নৃত্যগোপাল স্মৃতিমন্দির ও চন্দননগর পুস্তকাগার’। এটি কেবল একটি দালান নয়, বরং চন্দননগরের শিক্ষা ও সংস্কৃতির এক দেড়শো বছরের দীর্ঘ যাত্রার সাক্ষী। ১৮৭৩ সালের পয়লা অক্টোবর শ্রী যদুনাথ পালিত মহাশয়ের হাত ধরে চন্দননগর পুস্তকাগারের যাত্রা শুরু হয়। তৎকালীন ফরাসি উপনিবেশের উর্দিবাজারে একটি ভাড়া বাড়িতে এর জন্ম। শুরুর দিকে লাইব্রেরিটির স্থায়িত্ব ছিল অনিশ্চিত; কখনো নীচু পল্লী, কখনো কাঁসারিপাড়ায় বাড়ি বদল করতে করতে চলেছে এর কার্যাদি। যদুনাথ বাবু নাটকের অনুরাগী ছিলেন। বন্ধু মতিলাল শেঠ ও মহেন্দ্রনাথ নন্দীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি একটি থিয়েটার দলও গড়েছিলেন। কিন্তু গ্রন্থাগারটি বাঁচানোর তাগিদে তিনি নিজের শখের থিয়েটারের সামগ্রী পর্যন্ত বিক্রি করে দিয়েছিলেন। এই লাইব্রেরিকে এক স্থায়ী ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়ার কৃতিত্ব চন্দননগরের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, সমাজসেবক ও প্রথম মেয়র শ্রী হরিহর শেঠের। ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে তিনি বাগবাজারে তাঁর পিতা নিত্যগোপাল শেঠের স্মৃতির উদ্দেশ্যে ...