Posts

Showing posts from August, 2026

ঘোষাল পরিবারের দুর্গাপুজো, কোন্নগর হুগলি (The Traditional Durga Puja of the Ghoshal Family, Konnagar, Hooghly)

Image
হুগলি জেলার কোন্নগরে, রাজ রাজেশ্বরী যুব সমিতির কাছে রয়েছে এই অঞ্চলের একটি বিখ্যাত বনেদি পরিবার। ১৪৫৪ খ্রিষ্টাব্দে যখন এই অঞ্চল জঙ্গলঘেরা জনশূন্য প্রান্তর ছিল, সেই মাটিতেই প্রথম প্রদীপ জ্বেলেছিল এই ঘোষাল পরিবার। দিল্লির লোদি রাজবংশের সমসাময়িক সেই প্রাচীন দিনে এখানকার ঠাকুরদালানে শুরু হয়েছিল আদ্যাশক্তি দেবী দুর্গার আরাধনা। কালের পরিক্রমায় মোগল সম্রাট আকবরের কাছ থেকে পাওয়া রাজকীয় সনদ বা শংসাপত্র আজও সযত্নে বুকে আগলে রেখেছে এই বাড়ি।  শুধু তাই নয়, ব্রিটিশ আমলে এই বনেদি পুজোর প্রতি সম্মান জানিয়ে ইংরেজ সরকার থেকে প্রতি বছর ৭৫০ টাকা অনুদান আসত। সেই অনুদান এতটাই মহার্ঘ ছিল যে, পুজোর যাবতীয় খরচ মিটিয়েও উদ্বৃত্ত টাকা ঘোড়ার গাড়িতে চাপিয়ে শ্রীরামপুর কোষাগারে বা খাজাঞ্চি খানায় ফেরত পাঠাতেন বাড়ির লোকজন। ইতিহাসের সেই সোনালী পাতাগুলো আজ স্মৃতির মণিকোঠায় জমা হলেও, সাড়ে পাঁচশ বছরের বেশি এই পুজো আজও তার সমস্ত মহিমা নিয়ে সগৌরবে টিকে রয়েছে। ঘোষাল বাড়ির দুর্গা প্রতিমা মানেই একচালা সাবেকি রূপ। উলটোরথের দিন কাঠামো পুজোর মধ্য দিয়ে প্রতিমা গড়ার কাজ শুরু হয়। রূপসজ্জার মধ্যেও লুকিয়ে থাকে ব্রিটিশ...

মন্ডলবাড়ীর দুর্গাপুজো, গণ্ডলপাড়া চন্দননগর (The Mandal Bari Durga Puja, Gondalpara, Chandannagar)

Image
বৌদ্ধ সংস্কৃতির সাথে কিভাবে হিন্দু সংস্কৃতি মিশে যায়, তার একটা বড়ো উদাহরণ হলো চন্দননগরের গোন্দলপাড়ার ঐতিহাসিক মণ্ডল পরিবারের দুর্গোৎসব। এছাড়াও, এই বাড়ির পুজোর সঙ্গে মধ্য এশিয়ার নানা অঞ্চল, আবিসিনিয়া এবং অধুনা আফগানিস্তানের প্রাচীন বেশ কিছু রীতির মিল খুঁজে পাওয়া যায়। এই পরিবারের পূর্বপুরুষরা অতীতে নুনের এবং জাহাজের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অধুনা দক্ষিণ ২৪ পরগণার কাকদ্বীপে তাঁদের নিজস্ব বন্দরও ছিল। ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দে এক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে তাঁদের জাহাজ ডুবে যাওয়ার পর, পরিবারের এক সদস্য স্বপ্নাদেশ পান বাড়িতে দুর্গা পুজো শুরু করার। ঘটপুজো শুরু হলেও, ১৮২৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে প্রতিমা গড়ে পুজো শুরু হয়।  এনারা ১৭৪১ খ্রিষ্টাব্দে  জলপথে চন্দননগরে এসে গঙ্গার ধারে বিশাল ঠাকুরদালান সমেত পাশ্চাত্যের ছোঁয়ায় বসতবাড়িটি তৈরি করেন। এরপর থেকে নতুন বাড়িতেই পুজো হতে থাকে। ব্যবসায়িক সূত্রে ফরাসিদের সাথে এদের সুসম্পর্ক হবার জন্য, ফরাসি সাহেবদের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানানো হতো এবং বাড়ির হলঘরে গানবাজনা হতো, যেখানে ফরাসিরা সকল আনন্দে ও উৎসবে সামিল হতেন। বর্তমান সময়েও এই পরিবারের প...

হাওড়া আন্দুলের প্রেমিক ভবনের দুর্গাপুজো (The Durga Puja of Premik Bhavan in Andul, Howrah)

Image
হাওড়ার আন্দুলের দক্ষিণ পাড়ায় একটি শান্ত ও স্নিগ্ধ ভবন রয়েছে, যা 'প্রেমিক ভবন' নামে পরিচিত। এই ভবনটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি ঐতিহ্যবাহী বংশের ইতিহাস, এক মহান সাধকের জীবন ও বাংলার এক নিজস্ব  সাধন সঙ্গীতের ধারা। অবিভক্ত বঙ্গের অন্যতম সিদ্ধ তন্ত্রবিশারদ , আন্দুলের শান্ডিল্য বংশের প্রতিষ্ঠাতা "আগমতত্ত্ববিলাস" প্রণেতা নাটোর রাজগুরু সর্বানন্দ বংশীয় ন-পাড়ীয় মহাসাধক মহাপণ্ডিত শ্রীমৎ রঘুনাথ তর্কবাগীশের ভিটে এবং তাঁর অধঃস্তন ষষ্ঠ পুরুষ তথা যুগ পুরুষ স্বামী বিবেকানন্দের পিতৃকুলের কুলগুরু ( স্বামী বিবেকানন্দের পিতা বিশ্বনাথ দত্ত এবং মাতা ভুবনেশ্বরী দেবীর দীক্ষা গুরু ছিলেন প্রেমিক মহারাজ ) এবং আন্দুল কালী কীর্ত্তন সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাণপুরুষ তন্ত্রচূড়ামণি কবিরত্ন শ্রী শ্রী প্রেমিক মহারাজের পৈতৃক আবাস ও আন্দুল কালী কীর্ত্তন সমিতির সিদ্ধ পীঠ আন্দুলের প্রেমিক তীর্থ " প্রেমিক ভবন "। কবিরত্ন শ্রী শ্রী প্রেমিক মহারাজের উত্তরসূরীরা প্রেমিক মহারাজের স্মরণে তাদের এই  বাসভবনের নামকরণ করেন "  প্রেমিক ভবন "। বাংলার ১২৫১ সালে , ৪ ঠা ফাল্গুন , শুক্লাষ্টমী...