Posts

Showing posts from 2026

বামাচরণ মিষ্টান্ন ভান্ডার : বাগনানের আদি ও শ্রেষ্ঠ মিষ্টির দোকান : হাওড়া জেলা (Bamacharan Mishtanna Bhandar: Bagnan’s Original and Premier Sweet Shop: Howrah District)

Image
মিষ্টিপ্রেমী মানুষের কাছে বাগনান স্টেশন বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটি নাম—"বামাচরণ মিষ্টান্ন ভান্ডার"। স্টেশনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্মের থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে অবস্থিত এই দোকানটি আজকের যুগেও আপনাকে অতীতে টেনে নিয়ে যাবে।  কড়ি-বরগার ছাদ, কাঁচ লাগানো কাঠের শোকেস, বেঞ্চের ওপর সাজানো মিষ্টির নৌকা ও নোনতার ঝুড়ি আর চৌকি-সদৃশ পাটায় বসে মালিকের তবিল সামলানোর দৃশ্য—সব মিলিয়ে এই দোকানটি কেবল একটি মিষ্টির দোকান নয়, বরং আস্ত এক ইতিহাস। সত্যি বলতে, পুরো দোকানটির মধ্যে দুটি ঢাউস রেফ্রিজারেটর বড়োই বেমানান। ১৩১০ বঙ্গাব্দে (১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে) প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী দোকানের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মানস চক্রবর্তীর দাদু বামাচরণ চক্রবর্তী। তবে অবাক করার বিষয় হলো, বামাচরণবাবু প্রথমে কোনো মিষ্টির দোকান খোলেননি। সেকালে তাঁর ব্যবসা ছিল তেলেভাজার। চপ ও বেগুনি ভাজার পাশাপাশি তিনি শখ করে দানাদার ও সন্দেশ তৈরি করতেন। কিন্তু তেলেভাজার সঙ্গে তাঁর হাতের মিষ্টিও খদ্দেরদের দারুণ পছন্দ হয়ে যায়। মানুষের চাহিদাই তাঁকে ধীরে ধীরে মিষ্টির পরিধি বাড়াতে এবং পাকাপাকিভাবে মিষ্টির দোকান খুলতে উৎসাহিত করে। ...

বাদুড়ী পরিবারের রথযাত্রা: কদমতলা, মধ্য হাওড়া (The Rathyatra of the Baduri Family: Kadamtala, Central Howrah)

Image
বাদুড়ী পরিবারের রথযাত্রা: কদমতলা, মধ্য হাওড়া (The Rathyatra of the Baduri Family: Kadamtala, Central Howrah) হাওড়ার কদমতলা এলাকাটি এখনকার মতো অতটা ব্যস্ত ছিল না আজ থেকে প্রায় ২০০ বছর আগে। সেই সময় মাকড়দহ অঞ্চলে এসে বসতি গড়েছিলেন বাদুড়ী পরিবার। তাঁরা ছিলেন সেই সময়ের স্থানীয় জমিদার। যদিও সময়ের পরিবর্তনে তাঁদের বিশাল জমিদার বাড়ির রূপ এখন অনেকটাই বদলে গেছে, কিন্তু তাঁদের পারিবারিক ঐতিহ্য আজও টিকে আছে রথযাত্রার মাধ্যমে। এই পরিবারের রথযাত্রার মূল উদ্যোক্তা ছিলেন স্বর্গীয় অক্ষয় বাদুড়ী। ১৮৫১ সালে তিনি এবং তাঁর স্ত্রী সারদামণি দেবী বাড়িতে কুলদেবতা হিসেবে ‘নারায়ণশিলা’ প্রতিষ্ঠা করেন। সেই সময় থেকেই এই রথযাত্রা শুরু হয়, যা আজও বংশপরম্পরায় চলে আসছে। এই রথে বংশের কুলদেবতা নারায়ণ শিলা বিরাজমান থাকেন। কোনও জগন্নাথ মূর্তি নেই। সাধারণত রথযাত্রা মানেই মাসির বাড়িতে যাত্রা, কিন্তু বাদুড়ী পরিবারের রথযাত্রার নিয়মটা একটু আলাদা। এই রথ মাসির বাড়িতে যায় না; এটি তার নির্দিষ্ট জায়গা থেকে বেরিয়ে আশেপাশে কিছুটা ঘুরে আবার নিজ স্থানে ফিরে আসে। কাঠের তৈরি এই প্রাচীন রথটিতে কারুকার্যময় ...

চন্দননগর কলেজ মিউজিয়াম, হুগলি (Chandannagar College Museum, Hooghly)

Image
পরাধীন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অন্যতম পীঠস্থান চন্দননগর। ফরাসি শাসন থেকে শুরু করে সশস্ত্র বিপ্লব... শহরের সেই গৌরবময় ইতিহাস এখন এক ছাদের নিচে, চন্দননগর কলেজের নিজস্ব মিউজিয়ামে। কলেজের অবস্থান স্ট্রাণ্ড রোডে জোড়াঘাটের কাছেই। চন্দননগর কলেজটি একটি অনন্য একতলা ঔপনিবেশিক স্থাপত্য, যার আকর্ষণীয় গভীর বারান্দা দুটি টাস্কান স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ১৮৬২ সালে ফ্রেয়ার্স ডি সেন্ট এসপিরিট মিশনের ফাদার এম. বার্থেট ‘একোল ডি সেন্ট মারি’ নামে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৮৭ সালে এটি চন্দননগর প্রশাসনের অধীনে এসে ‘একোল ডি গার্সোঁ’ (বালকদের স্কুল) নাম নেয়। ১৮৯১ সালে এটি ইন্টারমিডিয়েট স্তর পর্যন্ত উন্নীত হয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়। ১৯০১ সালে এর নাম হয় ‘ডুপ্লেক্স কলেজ’ (পরে কলেজ অফ বুসি)। বর্তমানে এই ঐতিহ্যবাহী কলেজটি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত। ১৮৬২ সাল থেকে পথচলা এই কলেজ কানাইলাল দত্ত ও রাসবিহারী বসুর মতো বিপ্লবীদের স্মৃতি বহন করছে। ব্রিটিশ আমলে সরাসরি স্বাধীনতা সংগ্রামে জড়িয়ে পড়ার অপরাধে ব্রিটিশ সরকার টানা ২৩ বছর ...

ঐতিহাসিক কৃষ্ণচন্দ্রজী মন্দির: কালনা রাজবাড়ী চত্বর (Historic Krishnachandra Ji Temple: Kalna Rajbari Complex)

Image
পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা বা অম্বিকা কালনা তার সুপ্রাচীন মন্দির স্থাপত্যের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এই মন্দিরনগরীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য নিদর্শন হলো ‘কৃষ্ণচন্দ্রজী মন্দির’। বর্ধমান রাজপরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত এই মন্দিরটি তার অনন্য পঁচিশ-চূড়া (পঞ্চবিংশতি রত্ন) স্থাপত্যশৈলী এবং সূক্ষ্ম টেরাকোটা কাজের জন্য ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মন্দিরে থাকা প্রতিষ্ঠা লিপি এবং ঐতিহাসিক তথ্যানুসারে, মন্দিরটি ১৭৫১ খ্রিস্টাব্দে (১৬৭৩ শকাব্দ এবং ১১৫১ বঙ্গাব্দ) নির্মিত হয়েছিল। বর্ধমানের রাজা তিলোকচন্দ্রের মাতা মহারানী লক্ষ্মীকুমারী দেবী শ্রীহরির চরণে এই মন্দিরটি উৎসর্গ করেন। মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রধান সিংহাসনে কৃষ্ণচন্দ্র ও রাধার দারুনির্মিত (কাঠের) বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত। কৃষ্ণচন্দ্র বিগ্রহের উচ্চতা প্রায় ২ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং রাধার উচ্চতা ২ ফুট। এছাড়া মন্দিরে আরও দুই জোড়া রাধাকৃষ্ণ বিগ্রহ— রাধাবল্লভজি ও বৃন্দাবনচন্দ্রজি এবং চার সখীর মূর্তি রয়েছে। কৃষ্ণচন্দ্রজী মন্দিরটি একটি উঁচু বেদির ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং এটি তিনতলা বিশিষ্ট একটি 'রত্ন' মন্দির। মন্দিরটির সবচেয়ে...

ব্যারাকপুর পার্কের অন্দরমহল: দুইশ বছরের ইতিহাসের সুলুকসন্ধান (Inside Barrackpore Park: A Quest Through Two Hundred Years of History)

Image
হুগলি নদীর পূর্ব পাড়ে অবস্থিত ব্যারাকপুর পার্ক কেবল একটি বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তর নয়, এটি দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসের এক জীবন্ত মহাফেজখানা। ১৭৮৫ সাল থেকে শুরু করে আজকের আধুনিক ‘স্বামী বিবেকানন্দ স্টেট পুলিশ একাডেমি’ (SVSPA) পর্যন্ত এই পার্কের বিবর্তন অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। প্রায় ২০০ বছরের বেশি সময় ধরে এই প্রাঙ্গণটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ক্ষমতা, ব্যক্তিগত শোক এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক মেলবন্ধন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ব্যারাকপুর পার্কের নথিবদ্ধ ইতিহাসের সূচনা হয় ১৭৮৫ সালে। তৎকালীন গভর্নর-জেনারেল স্যার জন ম্যাকফারসন ক্যাপ্টেন জন ম্যাকইন্টায়ারের কাছ থেকে এই জমিটি ব্যক্তিগতভাবে কিনেছিলেন। শুরুতে এটি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কমান্ডার-ইন-চীফের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত থাকলেও, ১৮০১ সালে লর্ড ওয়েলেসলি এই স্থানটির ভাগ্য বদলে দেন। ওয়েলেসলি ছিলেন জাঁকজমকপ্রিয় শাসক। তিনি কলকাতার ভ্যাপসা গরম এবং রাজনৈতিক কোলাহল থেকে বাঁচতে ব্যারাকপুরকে একটি ‘সামার রিসর্ট’ বা গ্রীষ্মকালীন আবাস হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন। তাঁরই তত্ত্বাবধানে এখানে তৈরি হয় রাজকীয় ‘গভর্নমেন্ট হাউস’, কৃত্রিম হ্রদ এবং সুসজ্জিত বাগান। ১৯১২ সালে ভারতের...

গিরি গোবর্ধন মন্দির ও রূপেশ্বর শিবমন্দির : কালনা রাজবাড়ী চত্বর (Giri Gobardhan Temple and Rupeswar Shiva Temple: Kalna Rajbari Complex)

Image
বাংলার মন্দির স্থাপত্যের ইতিহাসে বর্ধমানের কালনার রাজবাড়ী চত্বর এক অনন্য স্থান দখল করে আছে। এই চত্বরের লালজি বাড়ির অভ্যন্তরে অবস্থিত "গিরি গোবর্ধন মন্দির" এবং লালজী বাড়ির পূর্বদিকে "রূপেশ্বর শিবমন্দির", তাদের নিজস্ব নির্মাণশৈলী এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের কারণে পর্যটক ও ইতিহাসবিদদের কাছে অত্যন্ত কৌতূহলের বিষয়। গিরি গোবর্ধন মন্দির: মন্দিরের গায়ে স্থাপিত একটি কালো স্লেট পাথরের ঝাপসা প্রতিষ্ঠা লিপি থেকে এর ইতিহাসের সূত্রপাত ঘটে। বাংলা ও রাজস্থানী—এই দুই ভাষায় খোদিত লিপিটি অনুযায়ী, মন্দিরটি ১৬৮০ শকাব্দে অর্থাৎ ১৭৫৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। লিপিতে তৎকালীন রাজপরিবারের বহু বিশিষ্ট নাম যেমন—কৃষ্ণরাম, জগৎরাম, ব্রজকিশোরী এবং ত্ৰিলোকচন্দ্রের উল্লেখ পাওয়া যায়। ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্ধমানের রাজা ত্ৰিলোকচন্দ্রের শাসনকালেই এই মন্দিরের ভিত্তি স্থাপিত হয় এবং পরবর্তীতে রাজা তিলকচন্দ্র ও অন্যান্যদের সময়ে এর বিস্তৃতি ঘটে। গিরি গোবর্ধন মন্দিরের প্রধান আকর্ষণ হলো এর ব্যতিক্রমী গঠন। কৃষ্ণের গিরি গোবর্ধন ধারণের পৌরাণিক কাহিনীকে জীবন্ত রূপ দিতে মন্দিরের উপরিভাগ কোন...

রেলপথের চিরচেনা সঙ্গী: এ. এইচ. হুইলারের ইতিহাস ও বিবর্তনের সাতকাহন (The Lifelong Companion of the Railways: The History and Evolution of A. H. Wheeler)

Image
ভারতীয় রেলের প্ল্যাটফর্ম মানেই এক জীবন্ত মহাকাব্য। ট্রেনের ঝিকঝিক শব্দ, কুলি আর হকারদের কোলাহলের মাঝে যে হলুদ রঙের স্টলটি যুগের পর যুগ ধরে যাত্রীদের সঙ্গী হয়ে আছে, তা হলো ‘এ. এইচ. হুইলার অ্যান্ড কোম্পানি’। ১৮৭৭ সালে তৎকালীন এলাহাবাদ বা আজকের প্রয়াগরাজ স্টেশনে যে যাত্রার সূচনা হয়েছিল, তা আজ কেবল একটি ব্যবসা নয়, বরং ভারতীয় রেল সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য নস্টালজিয়ায় পরিণত হয়েছে। এই দীর্ঘ পথচলায় হুইলার দেখেছে ব্রিটিশ রাজের আভিজাত্য, স্বাধীনতার উন্মাদনা এবং আধুনিক ডিজিটাল বিপ্লবের জোয়ার। এই সাফল্যের নেপথ্য কারিগর ছিলেন ফরাসি বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী এমিলে এডুয়ার্ড মোরো। ১৮৫৬ সালে ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া মোরোর রক্তে বই কেনাবেচার নেশা ছিল উত্তরাধিকার সূত্রেই। তার মাতামহ জেমস বার্ড ছিলেন ইংল্যান্ডের সাসেক্সের একজন পরিচিত কবি ও বই বিক্রেতা, যিনি স্ট্রিকল্যান্ড সিস্টারসের মতো লেখিকাদেরও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে মোরো যখন কলকাতায় আসেন, তখন তার মামারা ‘বার্ড অ্যান্ড কোম্পানি’র মাধ্যমে রেলওয়ের শ্রমিক সরবরাহের কাজ করতেন। এই পারিবারিক সংযোগই তাকে রেলযাত্রীদের চাহিদা বুঝতে সাহায্য করেছিল। ...

বাংলার মন্দির স্থাপত্যের রত্ন: কালনার ২৫-রত্ন লালজি মন্দির (​A Gem of Bengali Architecture: Kalna’s Panchabimsati-Ratna Lalji Temple)

Image
অম্বিকা কালনার রাজবাড়ী চত্বরে স্বমহিমায় দণ্ডায়মান লালজি মন্দির কেবল বাংলার স্থাপত্যের একটি নিদর্শন নয়, বরং এটি ইতিহাস, অলৌকিক বিশ্বাস এবং সূক্ষ্ম কারুকলার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। ১৭৩৯ খ্রিস্টাব্দে (১৬৬১ শকাব্দ) বর্ধমানের মহারাজা কীর্তিচন্দ্রের বিদুষী ও পরম বৈষ্ণবী মাতা ব্রজকিশোরী দেবী এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলার মন্দির নির্মাণশৈলীতে পঁচিশ-রত্ন বিশিষ্ট কাঠামো অত্যন্ত বিরল, আর লালজি মন্দির সেই বিরল ঐতিহ্যেরই শ্রেষ্ঠ স্বাক্ষর বহন করছে। এই মন্দিরের পত্তনের পেছনে যে কাহিনীটি লোকমুখে প্রচলিত, তা যেমন কৌতূহলোদ্দীপক তেমনি আবেগময়। কথিত আছে, এক পৌষ মাসে একদল নাগা সন্ন্যাসী গঙ্গাসাগরের মেলায় যাওয়ার পথে কালনায় যাত্রাবিরতি করেন। রাজমাতা ব্রজকিশোরী দেবী সেই সাধুদের তাঁবুর ভেতর থেকে এক অলৌকিক বালকের কণ্ঠস্বর শুনতে পান। কৌতূহলী হয়ে ভেতরে প্রবেশ করে তিনি কোনো বালকের দেখা না পেলেও এক সৌম্যদর্শন সাধু এবং তাঁর প্রাণপ্রিয় আরাধ্য 'কানাই' বিগ্রহের দর্শন পান। রাজমাতা অনুভব করেন এই বিগ্রহ অত্যন্ত জাগ্রত। তিনি কানাইকে রাজবাড়িতে প্রতিষ্ঠা করার মানত করেন এবং এক কৌশলের আশ্রয় নেন। তিনি সাধুকে...

কালনার ঐতিহাসিক রাসমঞ্চ: ঐতিহ্য ও স্থাপত্যের অনন্য মেলবন্ধন (The Historic Rasmancha of Kalna: A Unique Blend of Heritage and Architecture)

Image
পশ্চিমবঙ্গের মন্দির নগরী কালনা তার সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং অসাধারণ স্থাপত্যশৈলীর জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। কালনা রাজবাড়ীর দক্ষিণ প্রবেশদ্বারের বাঁ-দিকে অবস্থিত ঐতিহাসিক রাসমঞ্চটি একসময় ছিল রাজবাড়ীর আভিজাত্য ও বৈষ্ণব সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র এই স্থানটির ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমানে এটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মর্যাদা পেলেও, এর প্রতিটি ইটে জড়িয়ে আছে কয়েকশ বছরের পুরনো উৎসবের ইতিহাস। বৈষ্ণব সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কার্তিকী পূর্ণিমায় শ্রীকৃষ্ণের রাসলীলা স্মরণে এখানে লালজী ও মদন গোপাল জীউর রাস উৎসব উদযাপিত হতো। অনেকে মনে করেন, নবদ্বীপের রাস উৎসবের ধারা মেনেই এই মঞ্চের পরিকাঠামো নির্মিত হয়েছিল। উৎসবের দিনগুলোতে এই অঞ্চল এক মায়াবী রূপ ধারণ করত; চারপাশ সাজানো হতো দেবদারু গাছের পাতায় এবং গ্যাসবাতির উজ্জ্বল আলোয়। উৎসবের একটি প্রধান আকর্ষণ ছিল নগর পরিক্রমা। রাজবাড়ী থেকে বাদ্যভাণ্ড ও সঙসহ একটি বিশাল শোভাযাত্রা বের হয়ে বর্তমান চকবাজার এলাকা অর্থাৎ 'চক্ অম্বিকা' প্রদক্ষিণ করত, যা স্থানীয় জনজীবনে এক বিশেষ উৎসবের আমেজ তৈরি কর...

অম্বিকা কালনার রত্নেশ্বর ও জলেশ্বর শিবমন্দির: স্থাপত্য ও ইতিহাস (Ratneshwar and Jaleshwar Shiva Temples of Ambika Kalna: Architecture and History)

Image
অম্বিকা কালনা তার সমৃদ্ধ ইতিহাস ও অসাধারণ মন্দির স্থাপত্যের জন্য পরিচিত। এই শহরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো দুটি প্রাচীন শিবমন্দির- রত্নেশ্বর ও জলেশ্বর। এই মন্দির দুটি একইরকম স্থাপত্যশৈলী বহন করে এবং এদের নির্মাণকাল ও নির্মাতার সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না। রত্নেশ্বর শিবমন্দির: রত্নেশ্বর শিবমন্দিরটি কালনার মূল রাজবাড়ির বাইরে, পূর্ব দিকে অবস্থিত। এই ইঁটের তৈরি মন্দিরের সামনের অংশে সামান্য টেরাকোটার কাজ দেখা যায়। সেখানে একটি রথের ছবি খোদাই করা আছে, যার পতাকা উড়ছে। মন্দিরের স্থাপত্যশৈলীতে উড়িষ্যা-প্রদেশের প্রভাব সুস্পষ্ট। এটি একটি পঞ্চরত্ন মন্দির, অর্থাৎ এর চূড়ায় চারটি ছোট চূড়া এবং কেন্দ্রে একটি প্রধান চূড়া রয়েছে। প্রতিটি চূড়ারই চারটি দিকে প্রবেশপথ আছে। এই মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত শিবলিঙ্গটি কৃষ্ণবর্ণের, যা জলেশ্বর শিবলিঙ্গের মতো দেখতে। মন্দিরের গায়ে বা প্রবেশদ্বারে কোনো স্থাপন ফলক না থাকায় এর নির্মাণকাল বা নির্মাণকারীর পরিচয় জানা যায়নি। তবে এর গঠনশৈলী দেখে এটি প্রতাপেশ্বর মন্দিরের সমসাময়িক বলে ধারণা করা হয়। জলেশ্বর শিবমন্দির: জলেশ্বর শিবমন্দিরট...