কালনার গোপাল মন্দির: ইতিহাস, স্থাপত্য এবং লোকসংস্কৃতির মেলবন্ধন (Gopalji Temple of Kalna: A Confluence of History, Architecture, and Folk Culture)
বর্ধমানের কালনা শহরের সিদ্ধেশ্বরীপাড়ায়, সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের কাছেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এক অসাধারণ স্থাপত্যকীর্তি—গোপালজী মন্দির। এটি পঞ্চবিংশতি রত্নমন্দির বা পঁচিশ চূড়ার মন্দির হিসেবে পরিচিত। বর্ধমান রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় ১৭৬৬ খ্রিস্টাব্দে রাজা তিলকচাঁদের আমলে এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়, যদিও প্রচলিত আছে যে রাজ পরিবারের কৃষ্ণচন্দ্র বর্মণ এটি নির্মাণ করান। এটি রাজবাড়ীর দুটি সুবিশাল পঁচিশ চূড়া মন্দির—লালজি মন্দির ও কৃষ্ণচন্দ্রের মন্দিরের অনুকরণে নির্মিত তৃতীয় পঁচিশ চূড়ার মন্দির। লালজি ও কৃষ্ণচন্দ্র মন্দির দক্ষিণমুখী হলেও গোপাল মন্দিরটি পূর্বমুখী। গোপাল মন্দিরের নির্মাণশৈলী 'রত্ন' স্থাপত্যরীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সাড়ে তিন থেকে চার ফুট উঁচু ভিত্তিবেদীর ওপর চতুষ্কোণ ভূমি নকশার ওপর স্থাপিত হয়েছে এই পঁচিশ চূড়া। মন্দিরের প্রথম স্তবকে ১২টি, দ্বিতীয় স্তবকে ৮টি এবং তৃতীয় স্তবকে ৪টি চূড়া স্থাপিত হয়েছে, যার শীর্ষে শোভা পাচ্ছে মূল চূড়াটি। এর মূল প্রবেশপথের দু’পাশে দুটি প্রাচীন শিব মন্দির রয়েছে। মন্দিরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর টেরাকোটার কাজ। পোড়ামাটির এই অসা...