Posts

Showing posts from July, 2026

বামাচরণ মিষ্টান্ন ভান্ডার : বাগনানের আদি ও শ্রেষ্ঠ মিষ্টির দোকান : হাওড়া জেলা (Bamacharan Mishtanna Bhandar: Bagnan’s Original and Premier Sweet Shop: Howrah District)

Image
মিষ্টিপ্রেমী মানুষের কাছে বাগনান স্টেশন বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটি নাম—"বামাচরণ মিষ্টান্ন ভান্ডার"। স্টেশনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্মের থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে অবস্থিত এই দোকানটি আজকের যুগেও আপনাকে অতীতে টেনে নিয়ে যাবে।  কড়ি-বরগার ছাদ, কাঁচ লাগানো কাঠের শোকেস, বেঞ্চের ওপর সাজানো মিষ্টির নৌকা ও নোনতার ঝুড়ি আর চৌকি-সদৃশ পাটায় বসে মালিকের তবিল সামলানোর দৃশ্য—সব মিলিয়ে এই দোকানটি কেবল একটি মিষ্টির দোকান নয়, বরং আস্ত এক ইতিহাস। সত্যি বলতে, পুরো দোকানটির মধ্যে দুটি ঢাউস রেফ্রিজারেটর বড়োই বেমানান। ১৩১০ বঙ্গাব্দে (১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে) প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী দোকানের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মানস চক্রবর্তীর দাদু বামাচরণ চক্রবর্তী। তবে অবাক করার বিষয় হলো, বামাচরণবাবু প্রথমে কোনো মিষ্টির দোকান খোলেননি। সেকালে তাঁর ব্যবসা ছিল তেলেভাজার। চপ ও বেগুনি ভাজার পাশাপাশি তিনি শখ করে দানাদার ও সন্দেশ তৈরি করতেন। কিন্তু তেলেভাজার সঙ্গে তাঁর হাতের মিষ্টিও খদ্দেরদের দারুণ পছন্দ হয়ে যায়। মানুষের চাহিদাই তাঁকে ধীরে ধীরে মিষ্টির পরিধি বাড়াতে এবং পাকাপাকিভাবে মিষ্টির দোকান খুলতে উৎসাহিত করে। ...

বাদুড়ী পরিবারের রথযাত্রা: কদমতলা, মধ্য হাওড়া (The Rathyatra of the Baduri Family: Kadamtala, Central Howrah)

Image
বাদুড়ী পরিবারের রথযাত্রা: কদমতলা, মধ্য হাওড়া (The Rathyatra of the Baduri Family: Kadamtala, Central Howrah) হাওড়ার কদমতলা এলাকাটি এখনকার মতো অতটা ব্যস্ত ছিল না আজ থেকে প্রায় ২০০ বছর আগে। সেই সময় মাকড়দহ অঞ্চলে এসে বসতি গড়েছিলেন বাদুড়ী পরিবার। তাঁরা ছিলেন সেই সময়ের স্থানীয় জমিদার। যদিও সময়ের পরিবর্তনে তাঁদের বিশাল জমিদার বাড়ির রূপ এখন অনেকটাই বদলে গেছে, কিন্তু তাঁদের পারিবারিক ঐতিহ্য আজও টিকে আছে রথযাত্রার মাধ্যমে। এই পরিবারের রথযাত্রার মূল উদ্যোক্তা ছিলেন স্বর্গীয় অক্ষয় বাদুড়ী। ১৮৫১ সালে তিনি এবং তাঁর স্ত্রী সারদামণি দেবী বাড়িতে কুলদেবতা হিসেবে ‘নারায়ণশিলা’ প্রতিষ্ঠা করেন। সেই সময় থেকেই এই রথযাত্রা শুরু হয়, যা আজও বংশপরম্পরায় চলে আসছে। এই রথে বংশের কুলদেবতা নারায়ণ শিলা বিরাজমান থাকেন। কোনও জগন্নাথ মূর্তি নেই। সাধারণত রথযাত্রা মানেই মাসির বাড়িতে যাত্রা, কিন্তু বাদুড়ী পরিবারের রথযাত্রার নিয়মটা একটু আলাদা। এই রথ মাসির বাড়িতে যায় না; এটি তার নির্দিষ্ট জায়গা থেকে বেরিয়ে আশেপাশে কিছুটা ঘুরে আবার নিজ স্থানে ফিরে আসে। কাঠের তৈরি এই প্রাচীন রথটিতে কারুকার্যময় ...

চন্দননগর কলেজ মিউজিয়াম, হুগলি (Chandannagar College Museum, Hooghly)

Image
পরাধীন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অন্যতম পীঠস্থান চন্দননগর। ফরাসি শাসন থেকে শুরু করে সশস্ত্র বিপ্লব... শহরের সেই গৌরবময় ইতিহাস এখন এক ছাদের নিচে, চন্দননগর কলেজের নিজস্ব মিউজিয়ামে। কলেজের অবস্থান স্ট্রাণ্ড রোডে জোড়াঘাটের কাছেই। চন্দননগর কলেজটি একটি অনন্য একতলা ঔপনিবেশিক স্থাপত্য, যার আকর্ষণীয় গভীর বারান্দা দুটি টাস্কান স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ১৮৬২ সালে ফ্রেয়ার্স ডি সেন্ট এসপিরিট মিশনের ফাদার এম. বার্থেট ‘একোল ডি সেন্ট মারি’ নামে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৮৭ সালে এটি চন্দননগর প্রশাসনের অধীনে এসে ‘একোল ডি গার্সোঁ’ (বালকদের স্কুল) নাম নেয়। ১৮৯১ সালে এটি ইন্টারমিডিয়েট স্তর পর্যন্ত উন্নীত হয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়। ১৯০১ সালে এর নাম হয় ‘ডুপ্লেক্স কলেজ’ (পরে কলেজ অফ বুসি)। বর্তমানে এই ঐতিহ্যবাহী কলেজটি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত। ১৮৬২ সাল থেকে পথচলা এই কলেজ কানাইলাল দত্ত ও রাসবিহারী বসুর মতো বিপ্লবীদের স্মৃতি বহন করছে। ব্রিটিশ আমলে সরাসরি স্বাধীনতা সংগ্রামে জড়িয়ে পড়ার অপরাধে ব্রিটিশ সরকার টানা ২৩ বছর ...