Posts

Showing posts with the label Salkia

হনুমান বালিকা বিদ্যালয়: ১৯২১ থেকে আজকের সালকিয়ায় নারীশিক্ষার আলোকবর্তিকা (Hanuman Balika Vidyalaya: A Beacon of Women's Education in Salkia Since 1921)

Image
হাওড়া সালকিয়ার বাঁধাঘাটের কাছে, ঘিঞ্জি শ্রী অরবিন্দ রোডে পা রাখলে, চারিদিকের দোকানপাট, কোলাহল আর ধুলোর মাঝেও এক অদ্ভুত পুরনো আমেজ পাওয়া যায়। সেই আমেজটা ঐতিহ্যের, চটকলের ধোঁয়ার আর এক বিস্মৃত সময়ের। এই রাস্তার ওপরেই দাঁড়িয়ে আছে এক গোলাপি রঙের পুরোনো বড়ো বাড়ি— হনুমান বালিকা বিদ্যালয়। এই স্কুলটি ১০০ বছরেরও বেশি পুরনো এক সমাজসেবার নীরব সাক্ষী। কলকাতার বড় বড় মারওয়াড়ি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলো তখন গঙ্গার ওপারে হাওড়ার শিল্পাঞ্চলে চটকল ও অন্যান্য ব্যবসা বিস্তার করছে। কিন্তু ব্যবসার লাভের টাকা দিয়ে সমাজসেবা আর শিক্ষার আলো জ্বালানোর যে মহান ব্রত তাঁরা নিয়েছিলেন, তার উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই ভবনটি।  খিলানযুক্ত প্রবেশপথ, টানা বারান্দা এবং মোটা পিলারের এই বাড়িটির সামনে দাঁড়ালে, মূল প্রবেশপথের দুইদিকেই চোখে পড়বে কয়েকটি শ্বেতপাথরের ফলক, যার থেকে স্কুলের ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায়। এর জনকদের নাম— 'শেঠ সুরজমল নাগারমল' (Surajmull Nagarmull)। ১৯২০-৩০ এর দশকের কলকাতায় এই নামটি ছিল একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারকারী এক শিল্পগোষ্ঠীর। বর্তমানে যে রাস্তাটি উত্তর কলকাতার মহাত্মা গান্ধী র...

উত্তর হাওড়ার ঢ্যাং পরিবার: বাটখারা থেকে বনেদি দূর্গাপূজা, এক অসামান্য ঐতিহ্যের দেড়শো বছর (The Dhang Family of North Howrah: From Weights to a Venerable Durga Puja, One Hundred and Fifty Years of Extraordinary Heritage)

Image
উত্তর হাওড়ার সালকিয়া অঞ্চলের এক আলোকিত ইতিহাস বহন করে চলেছে ঢ্যাং পরিবার এবং তাদের সুপ্রাচীন দুর্গাপূজা। যে পরিবারের পূর্বপুরুষের নাম অনুসারে হাওড়া স্টেশন থেকে সালকিয়া পেরিয়ে বাবুডাঙ্গার মোড়ের ডানদিকে বাঁক নেওয়া পথটি 'শ্রীরাম ঢ্যাং রোড' নামে পরিচিত, সেই ঢ্যাং বংশের শিকড় প্রোথিত ছিল হুগলি জেলার খানাকুলের নিকটবর্তী ঝিংড়া গ্রামে। যদিও এই বংশের মূল পদবী 'দে', কিন্তু 'ঢ্যাং' উপাধি প্রাপ্তির কারণ আজও লোকচক্ষুর আড়ালে। আদিপুরুষ গুরুদাস ঢ্যাং-এর পুত্র লক্ষ্মণ শাঁখার ব্যবসা করতেন। লক্ষ্মণ এবং তাঁর পুত্র শ্রীরাম ঢ্যাং প্রথম ঝিংড়া গ্রাম থেকে সালকিয়াতে এসে বসতি স্থাপন করেন। নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে শ্রীরাম ঢ্যাং সালকিয়াতে প্রতিষ্ঠা করেন পিতলের ঢালাই কারখানা, যেখানে তিনি ওজন করার বাটখারা তৈরি করে দ্রুত উন্নতির শিখরে পৌঁছন। শ্রীরাম ঢ্যাং-এর পাঁচ পুত্র, দেবেন্দ্রনাথ, মহাদেব, শিবচন্দ্র, রাখালচন্দ্র এবং তারকনাথ, পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে যৌথ ব্যবসায় নতুন মাত্রা যোগ করেন। তারা ঢালাই কারখানার পাশাপাশি তেল ও তুলোর ব্যবসা শুরু করেন এবং সুইডেনে তৈরি 'টেক্কামার...

পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভিটেয় দুর্গাপুজো: সালকিয়া হাউসের বনেদি ঐতিহ্যের আখ্যান (Durga Puja at the Ancestral Home of Pulak Bandyopadhyay: The Story of Salkia House's Noble Heritage)

Image
হাওড়া বাঁধাঘাটের কাছেই, শ্রীরাম ঢ্যাং রোড ধরে হাঁটতে হাঁটতে আপনার চোখে পড়ে যাবে একটা পুরোনো সাদা প্রাসাদোপম বাড়ি, যার গেটের বাইরে একটা দিকে লেখা আছে শালিখা হাউস, আর অন্যদিকে সালকিয়া হাউস। বাড়ির সামনে দাঁড়ালে মনের দৃশ্যপটে ভেসে আসবে অতীত থেকে ভেসে আসা কিছু বাংলা গানের সুর এবং একজন বিখ্যাত সুরকারের নাম... শ্রী পুলক বন্দোপাধ্যায়।  এই সালকিয়ার বন্দোপাধ্যায় বাড়ি যেমন বিখ্যাত বাঙালির এই গর্বের সুরকারের জন্য, তেমনই বিখ্যাত এর দুর্গাপুজো। পুজো শুরু হয়েছিল ১৭৭৪ খ্রিষ্টাব্দে, বাড়ির পূর্বপুরুষ জমিদার শ্রী রাধামোহন বন্দোপাধ্যায়ের আমলে। তবে পরিবারটি সমৃদ্ধি লাভ করে শ্রী রসিক কৃষ্ণ বন্দোপাধ্যায়ের আমলে। একটা সময় সালকিয়া বাজারটি এনাদের পরিবারের মালিকানাধীন ছিল। তবে বর্তমানে আর্থিক কারণে ভাটা পড়েছে আড়ম্বরে। তাও নিষ্ঠাভরে এনারা প্রায় ২৫০ বছর ধরে দুর্গাপূজা করে আসছেন। এবার আসা যাক পুজোর বিবরণে। বাড়ির ঠাকুরদালানে তৈরি হয় একচালার প্রতিমা। মহালয়ার পরের দিন দেবীর বোধন হয়, নিজস্ব ঠাকুরঘরে হয় চণ্ডীপাঠ। ষষ্ঠীর দিনে সন্ধ্যায় বেলবরণ দিয়...