Posts

Showing posts with the label Murshidabad

নবাব সরফরাজ খাঁ এবং তার অসমাপ্ত ফুটি/ফৌতি মসজিদ, মুর্শিদাবাদ (Nawab Sarfaraz Khan and his incomplete Fouti Mosque, Murshidabad)

Image
নবাব সুজাউদ্দিনের মৃত্যুর পর, পুত্র সরফরাজ খাঁ ১৭৩৯ খ্রিস্টাব্দে বাংলার মসনদে আরোহণ করেন। এনার মায়ের নাম ছিল জিন্নাতউন্নিসা। সুজাউদ্দিন ছিলেন একজন অলস, বিলাসী, এবং ধর্মভীরু নবাব। তার সময়ে হারেমে ১৫০০ বেগম এবং মসজিদে ১০০ বেতনভোগী মোল্লা রাখতেন। সমস্ত রাজ্যের দায়ভার তিনি মন্ত্রিসভার ওপরে দিয়ে, নিজে রমণীবিলাসে দিন কাটাতেন। এরফলে কিছুদিনের মধ্যেই মন্ত্রণাসভার লোকজনের সাথে তার মতবিরোধ দেখা দিলো, এবং তারা নেমে পড়লেন সরফরাজকে সিংহাসন থেকে সরানোর কাজে।  পারস্য সম্রাট নাদিরশাহ দিল্লি আক্রমণ করেই মোরাদ খাঁ ও সরবলন্দ খাঁকে পঞ্চাশ জন অশ্বারোহী দিয়ে বাংলায় পাঠালেন রাজস্ব আদায়ের জন্য। নবাব তাদের রাজস্ব প্রদান করলেন। নাদির শাহ পারস্য ফিরে যেতেই দিল্লি সিংহাসনে বসলেন মুঘল সম্রাট মহম্মদ শাহ, এবং চাইলেন রাজস্ব। নবাব একই বছরে দুবার রাজন্ব দিতে অস্বীকার করেন। সুযোগ বুঝে হাজি আহম্মদ, আলমচাঁদ ও জগৎশেঠ দিল্লির সম্রাটকে দিলেন উৎকোচ ও প্রতিশ্রুতি, যে এই বছরই দেবেন রাজস্ব, কিন্তু তার বিনিময়ে চাই বাংলা বিহার উড়িষ্যার নবাবি ফরমান। সম্রাট রাজী হলেন। হাজি আহম্মদের ভাই আলিবর্দীকে, সরফরাজের ...

মতিঝিল জামা মসজিদ ও একটি রহস্যময় ঘর (The Enigmatic Motijheel Jama Mosque and a Mysterious Chamber)

Image
বাংলার নবাবী শাসনের স্বর্ণালী ইতিহাসে মুর্শিদাবাদ এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। এই ঐতিহাসিক শহরের বুকে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বহু স্থাপত্য, যার মধ্যে অন্যতম উজ্জ্বল রত্ন হল মতিঝিল জামা মসজিদ, যা স্থানীয়ভাবে কালা মসজিদ বা মতিঝিল মসজিদ নামেও পরিচিত। এই মসজিদ শুধু মুর্শিদাবাদের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যই বহন করে না, বরং এটি একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রও বটে। নবাব আলীবর্দী খানের ভগ্নীপতি এবং বড় মেয়ে মেহেরুন্নেসার স্বামী ছিলেন নবাব মহম্মদ নওয়াজেশ আলি খান। মেহেরুন্নেসা ইতিহাসে ঘসেটি বেগম নামেই অধিক পরিচিত। নিঃসন্তান এই দম্পতি তাদের আপন বোন আমিনা বেগমের পুত্র, এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলার বৈমাত্রেয় ভাই একরামউদ্দৌলাকে দত্তক নিয়ে সন্তান স্নেহে লালন-পালন করেছিলেন। ইতিহাস গবেষকদের সূত্রে জানা যায়, এই মতিঝিল মসজিদে স্বয়ং সিরাজউদ্দৌলার দাদু আলীবর্দী খাঁ নিয়মিত নমাজ পড়তে আসতেন, এবং শৈশবে ছোট্ট সিরাজও হয়তো দাদুর হাত ধরে এই পবিত্র স্থান এসেছেন। তবে নিয়তির পরিহাসে, নিঃসন্তান আলীবর্দীর বড় কন্যা ঘসেটি বেগম সিরাজের কনিষ্ঠ ভ্রাতা একরামউদ্দৌলাকে পুত্রবৎ স্নেহ দিলেও, অল্প বয়সেই তার অকা...

সুজাউদ্দিন খানের মসজিদ ও সমাধি, রোশনিবাগ (Tumb and Mosque of Shuja Uddin Khan, Roshnibagh)

Image
সুজাউদ্দিন খানের পুরো নাম মুতামুল মুলক মির্জা সুজাউদ্দিন মহম্মদ খাঁ আসাদ জং। ১৬৭০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ বুরহানপুরে তার জন্ম হয়। নবাব মুর্শিদকুলি খানের অধীনে তিনি চাকরি করার সময়, নবাবের স্নেহভাজন হন, এবং ১৭১৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি উড়িষ্যার সুবেদারের পদে উন্নীত হন। নবাবকন্যা আজিমুন্নিসা বেগমের সাথে সুজাউদ্দিন বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হন। মুর্শিদকুলি খানের মৃত্যুর পর তিনি সুবে বাংলার দ্বিতীয় নবাব হিসেবে মুর্শিদাবাদের সিংহাসনে বসেন। ভোগবিলাসী জীবনযাপনের জন্য স্ত্রীয়ের সাথে তার সম্পর্ক ভালো ছিল না। কিন্তু রাজত্ব শাসনের বিষয়ে ছিলেন অনেকটাই দক্ষ, এবং নিয়মিত মুঘল দরবারে রাজস্ব পাঠাতেন (বছরে প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা)। তাই তৎকালীন দিল্লির বাদশাহের সাথে, সুজাউদ্দিনের সম্পর্ক ছিল খুবই ভালো। বিরাট একটি সেনাবাহিনী তিনি রেখেছিলেন, যার মধ্যে ছিল বাঙালি, আফগানি, তুর্কি ও তেলেঙ্গানার সৈন্যরা এবং একটি নৌসেনা বাহিনী। সুবে বাংলাকে তিনি শাসনের সুবিধার্থে চার ভাগে ভাগ করে দেন - ১. পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের কিছু অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় বিভাগ। ২. পূর্ববঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ, শ্রীহট্ট ও চট্টগ্রাম নিয়ে ঢাকা বিভাগ। ৩....

বাংলার সবথেকে বড়ো ইমামবাড়া, মুর্শিদাবাদ (The Grand Imambara of Murshidabad: A Jewel of Bengal)

Image
বাংলার সবথেকে বড়ো ইমামবাড়া রয়েছে মুর্শিদাবাদের হাজারদুয়ারির পাশেই। সিরাজদ্দৌলার তৈরী কাঠের ইমামবাড়া আগুনে পুড়ে গেলে, তৎকালীন নবাব নাজিম ফেরাদুন জা ১৮৪৭ খ্রিস্টাব্দে এটি নতুন করে তৈরী করেন। এই ইমামবাড়ার স্থপতি ছিলেন সাদেক আলী, এবং ১১ মাসে এটি তৈরী হয়; খরচ হয়েছিল প্রায় ছয় লক্ষ টাকা।  ইমামবাড়াটির দৈর্ঘ্য ৬৮০ ফুট, প্রস্থ অবশ্য সব স্থানে সমান নয়। মধ্যের অংশ ৩০০ ফুট। নির্মাণকাজ চলার সময় শ্রমিকদের এখানে থাকা খাওয়ার বন্দোবস্ত ছিল, যাতে ২৪ ঘণ্টা কাজ করা যেতে পারে। ইমামবাড়া সম্পূর্ণ হলে, পারিশ্রমিকের সাথে শ্রমিকদের দেওয়া হয়েছিল মূল্যবান দোশালা (দুটো শাল) ও রুমাল (বর্গাকার মাপের শাল)। শ্বেতশুভ্র দুইতলা ইমামবাড়াটি, তিনটি আয়তক্ষেত্রকার অঙ্গনে বিভক্ত; পূর্বাঙ্গন, মধ্যাঙ্গন ও পশ্চিমাঙ্গন। এর মধ্যাঙ্গনে রয়েছে সিরাজদৌল্লা নির্মিত মদিনার থেকে বড় একটি মদিনা। এটি মাটি থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ ফুট উঁচু। মীনা করা টাইলস বসানো এবং গম্বুজের মাথায় পেতল দিয়ে বাঁধানো রয়েছে। এখানে মহরমের সময় মাটির ঘোড়া ও সিন্নি দিয়ে, মানত করে যায় হিন্দু মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ। মধ...

কাঠগোলা প্রাসাদ, মুর্শিদাবাদ (Kathgola Palace, Murshidabad)

Image
মুর্শিদাবাদের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাসাদগুলির মধ্যে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে কাঠগোলা প্রাসাদ। যদিও হাজারদুয়ারীর জৌলুস অনেক বেশি, তবুও ভাগীরথীর শান্ত তীরের অনতিদূরে, প্রায় চার-পাঁচ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই হলুদ বর্ণের প্রাসাদটি তার নিজস্ব স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহাসিক তাৎপর্যের জন্য আজও পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এর কারুকার্যময় দেওয়াল যেন এক নীরব কবিতা, যা অতীত দিনের সমৃদ্ধির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এই সুরম্য প্রাসাদটি জিয়াগঞ্জের খ্যাতনামা রাজা শ্রী লক্ষ্মীপৎ সিং দুগগার এবং তাঁর সুযোগ্য ভ্রাতা শ্রী ধনপৎ সিং দুগগারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নির্মিত হয়েছিল। ইতিহাসের পাতা উল্টালে শোনা যায়, পলাশীর সেই কুখ্যাত ষড়যন্ত্রের কিছু গোপন যোগসূত্র নাকি এই প্রাসাদকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছিল। যদিও ঠিক কবে এই প্রাসাদ নির্মাণের সূচনা হয়েছিল, তা জানা যায় না। তবে ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণকার্য সম্পূর্ণ হয়, যা আজও কালের বুকে এক স্থাপত্য বিস্ময় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই প্রাসাদটির 'কাঠগোলা' নামকরণের উৎস নিয়ে দুটি ভিন্ন মত প্রচলিত আছে। প্রথম...