Posts

Showing posts from May, 2026

ঐতিহাসিক কৃষ্ণচন্দ্রজী মন্দির: কালনা রাজবাড়ী চত্বর (Historic Krishnachandra Ji Temple: Kalna Rajbari Complex)

Image
পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা বা অম্বিকা কালনা তার সুপ্রাচীন মন্দির স্থাপত্যের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এই মন্দিরনগরীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য নিদর্শন হলো ‘কৃষ্ণচন্দ্রজী মন্দির’। বর্ধমান রাজপরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত এই মন্দিরটি তার অনন্য পঁচিশ-চূড়া (পঞ্চবিংশতি রত্ন) স্থাপত্যশৈলী এবং সূক্ষ্ম টেরাকোটা কাজের জন্য ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মন্দিরে থাকা প্রতিষ্ঠা লিপি এবং ঐতিহাসিক তথ্যানুসারে, মন্দিরটি ১৭৫১ খ্রিস্টাব্দে (১৬৭৩ শকাব্দ এবং ১১৫১ বঙ্গাব্দ) নির্মিত হয়েছিল। বর্ধমানের রাজা তিলোকচন্দ্রের মাতা মহারানী লক্ষ্মীকুমারী দেবী শ্রীহরির চরণে এই মন্দিরটি উৎসর্গ করেন। মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রধান সিংহাসনে কৃষ্ণচন্দ্র ও রাধার দারুনির্মিত (কাঠের) বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত। কৃষ্ণচন্দ্র বিগ্রহের উচ্চতা প্রায় ২ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং রাধার উচ্চতা ২ ফুট। এছাড়া মন্দিরে আরও দুই জোড়া রাধাকৃষ্ণ বিগ্রহ— রাধাবল্লভজি ও বৃন্দাবনচন্দ্রজি এবং চার সখীর মূর্তি রয়েছে। কৃষ্ণচন্দ্রজী মন্দিরটি একটি উঁচু বেদির ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং এটি তিনতলা বিশিষ্ট একটি 'রত্ন' মন্দির। মন্দিরটির সবচেয়ে...

ব্যারাকপুর পার্কের অন্দরমহল: দুইশ বছরের ইতিহাসের সুলুকসন্ধান (Inside Barrackpore Park: A Quest Through Two Hundred Years of History)

Image
হুগলি নদীর পূর্ব পাড়ে অবস্থিত ব্যারাকপুর পার্ক কেবল একটি বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তর নয়, এটি দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসের এক জীবন্ত মহাফেজখানা। ১৭৮৫ সাল থেকে শুরু করে আজকের আধুনিক ‘স্বামী বিবেকানন্দ স্টেট পুলিশ একাডেমি’ (SVSPA) পর্যন্ত এই পার্কের বিবর্তন অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। প্রায় ২০০ বছরের বেশি সময় ধরে এই প্রাঙ্গণটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ক্ষমতা, ব্যক্তিগত শোক এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক মেলবন্ধন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ব্যারাকপুর পার্কের নথিবদ্ধ ইতিহাসের সূচনা হয় ১৭৮৫ সালে। তৎকালীন গভর্নর-জেনারেল স্যার জন ম্যাকফারসন ক্যাপ্টেন জন ম্যাকইন্টায়ারের কাছ থেকে এই জমিটি ব্যক্তিগতভাবে কিনেছিলেন। শুরুতে এটি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কমান্ডার-ইন-চীফের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত থাকলেও, ১৮০১ সালে লর্ড ওয়েলেসলি এই স্থানটির ভাগ্য বদলে দেন। ওয়েলেসলি ছিলেন জাঁকজমকপ্রিয় শাসক। তিনি কলকাতার ভ্যাপসা গরম এবং রাজনৈতিক কোলাহল থেকে বাঁচতে ব্যারাকপুরকে একটি ‘সামার রিসর্ট’ বা গ্রীষ্মকালীন আবাস হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন। তাঁরই তত্ত্বাবধানে এখানে তৈরি হয় রাজকীয় ‘গভর্নমেন্ট হাউস’, কৃত্রিম হ্রদ এবং সুসজ্জিত বাগান। ১৯১২ সালে ভারতের...

গিরি গোবর্ধন মন্দির ও রূপেশ্বর শিবমন্দির : কালনা রাজবাড়ী চত্বর (Giri Gobardhan Temple and Rupeswar Shiva Temple: Kalna Rajbari Complex)

Image
বাংলার মন্দির স্থাপত্যের ইতিহাসে বর্ধমানের কালনার রাজবাড়ী চত্বর এক অনন্য স্থান দখল করে আছে। এই চত্বরের লালজি বাড়ির অভ্যন্তরে অবস্থিত "গিরি গোবর্ধন মন্দির" এবং লালজী বাড়ির পূর্বদিকে "রূপেশ্বর শিবমন্দির", তাদের নিজস্ব নির্মাণশৈলী এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের কারণে পর্যটক ও ইতিহাসবিদদের কাছে অত্যন্ত কৌতূহলের বিষয়। গিরি গোবর্ধন মন্দির: মন্দিরের গায়ে স্থাপিত একটি কালো স্লেট পাথরের ঝাপসা প্রতিষ্ঠা লিপি থেকে এর ইতিহাসের সূত্রপাত ঘটে। বাংলা ও রাজস্থানী—এই দুই ভাষায় খোদিত লিপিটি অনুযায়ী, মন্দিরটি ১৬৮০ শকাব্দে অর্থাৎ ১৭৫৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। লিপিতে তৎকালীন রাজপরিবারের বহু বিশিষ্ট নাম যেমন—কৃষ্ণরাম, জগৎরাম, ব্রজকিশোরী এবং ত্ৰিলোকচন্দ্রের উল্লেখ পাওয়া যায়। ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্ধমানের রাজা ত্ৰিলোকচন্দ্রের শাসনকালেই এই মন্দিরের ভিত্তি স্থাপিত হয় এবং পরবর্তীতে রাজা তিলকচন্দ্র ও অন্যান্যদের সময়ে এর বিস্তৃতি ঘটে। গিরি গোবর্ধন মন্দিরের প্রধান আকর্ষণ হলো এর ব্যতিক্রমী গঠন। কৃষ্ণের গিরি গোবর্ধন ধারণের পৌরাণিক কাহিনীকে জীবন্ত রূপ দিতে মন্দিরের উপরিভাগ কোন...

রেলপথের চিরচেনা সঙ্গী: এ. এইচ. হুইলারের ইতিহাস ও বিবর্তনের সাতকাহন (The Lifelong Companion of the Railways: The History and Evolution of A. H. Wheeler)

Image
ভারতীয় রেলের প্ল্যাটফর্ম মানেই এক জীবন্ত মহাকাব্য। ট্রেনের ঝিকঝিক শব্দ, কুলি আর হকারদের কোলাহলের মাঝে যে হলুদ রঙের স্টলটি যুগের পর যুগ ধরে যাত্রীদের সঙ্গী হয়ে আছে, তা হলো ‘এ. এইচ. হুইলার অ্যান্ড কোম্পানি’। ১৮৭৭ সালে তৎকালীন এলাহাবাদ বা আজকের প্রয়াগরাজ স্টেশনে যে যাত্রার সূচনা হয়েছিল, তা আজ কেবল একটি ব্যবসা নয়, বরং ভারতীয় রেল সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য নস্টালজিয়ায় পরিণত হয়েছে। এই দীর্ঘ পথচলায় হুইলার দেখেছে ব্রিটিশ রাজের আভিজাত্য, স্বাধীনতার উন্মাদনা এবং আধুনিক ডিজিটাল বিপ্লবের জোয়ার। এই সাফল্যের নেপথ্য কারিগর ছিলেন ফরাসি বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী এমিলে এডুয়ার্ড মোরো। ১৮৫৬ সালে ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া মোরোর রক্তে বই কেনাবেচার নেশা ছিল উত্তরাধিকার সূত্রেই। তার মাতামহ জেমস বার্ড ছিলেন ইংল্যান্ডের সাসেক্সের একজন পরিচিত কবি ও বই বিক্রেতা, যিনি স্ট্রিকল্যান্ড সিস্টারসের মতো লেখিকাদেরও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে মোরো যখন কলকাতায় আসেন, তখন তার মামারা ‘বার্ড অ্যান্ড কোম্পানি’র মাধ্যমে রেলওয়ের শ্রমিক সরবরাহের কাজ করতেন। এই পারিবারিক সংযোগই তাকে রেলযাত্রীদের চাহিদা বুঝতে সাহায্য করেছিল। ...