কলকাতার উত্তর সীমানার ব্যস্ত জনপদ বরানগর। আজ আমরা এই শহরের যে আধুনিক রূপ দেখি, কয়েকশ বছর আগে তার ছবিটা ছিল একেবারেই ভিন্ন। এক সময় গঙ্গার বুক চিরে পালের জাহাজ আসত, আর সেই জাহাজে করে এ দেশে আসত পর্তুগিজ, ডেনিশ ও ডাচ বণিকরা। গঙ্গার পূর্ব পাড়ের এই অঞ্চলটি তখন ছিল বাণিজ্যিক রণক্ষেত্রের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ১৭০০ সালের শুরুর দিকে এখানেই গড়ে ওঠে ডাচ বা ওলন্দাজ উপনিবেশ। ডাচ গভর্নররা তাদের বাণিজ্য বিস্তারের জন্য এই জায়গাটিকে বেছে নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১৮১৪ সালে এই অঞ্চলটি বৈবাহিক চুক্তির ভিত্তিতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে চলে যায়। শুধুমাত্র শ্রী রামকৃষ্ণদেবের পদধূলিধন্য অঞ্চল নয়, বরানগরের এই রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক পালাবদলের ইতিহাসে আজও আনাচে-কানাচে লুকিয়ে আছে ইউরোপীয় স্থাপত্যের অস্পষ্ট ছাপ। গঙ্গার ধারের 'কুঠি ঘাট' নামটা আমাদের অতি পরিচিত, কিন্তু এর পেছনের ইতিহাস আজ বিস্মৃতির আড়ালে। ওলন্দাজ গভর্নরের থাকার জন্য গঙ্গার ঠিক ধারেই গড়ে উঠেছিল এক বিশাল দ্বিতল বাগানবাড়ি। 'কোঠি' থেকে আসা এই 'কুঠিবাড়ি'টি এক সময় জাঁকজমকে ভরপুর ছিল। আজ সেই প্রাসাদের গুটিকতক ...
মেদিনীপুরের রূপনারায়ণ নদের বাঁকে একসময় রূপকথার মতো ইতিহাস জন্ম নিয়েছিল। যেখানে রেশম শিল্পের হাত ধরে ওলন্দাজ, ফরাসী আর ইংরেজ বণিকদের আনাগোনা ছিল, সেই উর্বর 'চেতুয়া পরগণা'র এক কোণে আজও পড়ে আছে এক টুকরো বিষণ্ন অতীত। দাসপুর থানার খোর্দা বিষ্ণুপুর গ্রামের পরিত্যক্ত এক 'ঠাকুরবাড়ি'—যা এখন কেবলই এক ধ্বংসপ্রাপ্ত আভিজাত্যের কঙ্কাল। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষাশেষি রেশম ব্যবসার রমরমা তখন তুঙ্গে। সেই অর্থেই একদা জমিদারী গড়ে তুলেছিল রায়বংশ। যদুনাথ রায়ের হাতে যখন ১৮৪৮-৪৯ সালে শ্রীশ্রীরঘুনাথজীর মন্দির প্রতিষ্ঠা হচ্ছে, তখন এই ঠাকুরবাড়ি ছিল এক রাজকীয় ঠিকানা। প্রাচীর ঘেরা প্রাঙ্গণ, ঝকঝকে টেরাকোটার অলঙ্করণ আর বৈষ্ণবীয় ভক্তিরসে টইটম্বুর এক জনপদ। কিন্তু আজ? সেই মূল ফটক নেই, সেই প্রতিপত্তি নেই— আছে কেবল নির্জন প্রান্তরে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি নিঃসঙ্গ মন্দির। লোকশ্রুতি বলে, দোর্দণ্ডপ্রতাপ এই রায়বংশের পতনের বীজ লুকিয়ে ছিল এক মুহূর্তের অহংকারে। বাড়ির সামনে দিয়ে মাথা উঁচু করে হাঁটা নিষিদ্ধ ছিল যে জমিদারের রাজত্বে, তিনি একদিন ভুল করে বসেছিলেন নিজ গুরুদেবের সামনেই। আঙ্গিনার ডাব গাছের ...
কলকাতার পুরনো নিলামঘরগুলোতে উঁকি মারলে মাঝে মধ্যে কিছু খুব সুন্দর জিনিষ দেখতে পাওয়া যায়। এরকমই কিছু Toby Mugs আমি দেখেছিলাম পার্ক স্ট্রিটের মেহেরাদের নিলাম ঘরে। জিনিসগুলো আমার এতটাই সুন্দর লেগেছিল, আমি এগুলো নিয়ে আমার কিছু সংগ্রাহক বন্ধুদের সাথে কথা বলি, এবং জানতে পারি এদের সম্পর্কে। এদের সাইজ ও গঠনরীতি অনুযায়ী Toby Jugs বা Toby Mugs বলা হয়ে থাকে। জগ ঢালা জন্য ব্যবহার করা হয়; মগ পান করার জন্য ব্যবহার করা হয়। এগুলো তৈরি হয় ফিগারাল সিরামিক পিচার দিয়ে, যা একটি জনপ্রিয় চরিত্র, ঐতিহাসিক, কাল্পনিক বা জেনেরিক আকারে তৈরি ( ব্যক্তি বা প্রাণী)। মোটামুটি ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দের সময় থেকে ইংল্যান্ডে এগুলো বানানো শুরু হয়। Toby নামটা কিভাবে এলো, সেটা নিয়ে নানান অভিমত রয়েছে। প্রথমতঃ , সেটা হলো শেক্সপিয়রের নাটক, টুয়েলফথ নাইটের স্যার টবি বেলচের চরিত্রের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছিল। এটি ফরাসি শব্দ "টোপে" থেকে এসেছে। দ্বিতীয়তঃ, এটি অষ্টাদশ শতকের ইয়র্কশায়ারের কুখ্যাত মদ্যপানকারী হেনরি এলওয়েসের নামে নামকরণ করা হয়েছিল, যিনি "টবি ফিলপট...
Comments
Post a Comment