Posts

Showing posts from November, 2025

বিশ্বজুড়ে মোরগ লড়াই: এক পুরানো, বিতর্কিত খেলা (Cockfighting Across the World: An Ancient, Controversial Sport)

Image
সেদিন ন্যাশনাল হাইওয়ে ধরে গাড়ি ছুটছিল হাওড়া হয়ে, গন্তব্য খড়গপুরের চৌরঙ্গী মোড়। পশ্চিম মেদিনীপুরে ঢুকে, একটা ছোট ব্রেক নেবার জন্য সবাই নামলাম বসন্তপুরের একটা ছোট চায়ের দোকানে। হাইওয়ের যে দিকে আমরা দাঁড়িয়েছিলাম, তার উল্টোদিকে একটা ছোট মাঠের মধ্যে গাছের তলায় দেখলাম বেশ ভিড় জমেছে, যেন কোনো গ্রাম্য হাট বসেছে। আমাদের গাড়িচালক-দাদাকে জিজ্ঞাসা করতেই শুনলাম ওখানে নাকি মোরগ লড়াই চলছে!  বাংলার রাঢ়বঙ্গ অঞ্চলের খুব জনপ্রিয় খেলা হলো এই মোরগ লড়াই। মানব ইতিহাসে বহু পুরনো এবং পৃথিবীর অনেক অঞ্চলে এর চল ছিল। এই খেলাটি প্রথমে ভারত, চীন, পারস্য এবং আশেপাশের পূর্বের দেশগুলিতে শুরু হলেও, পশ্চিমে এর পরিচিত হয় প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৫২৪-৪৬০ সালের দিকে, গ্রিক সেনাপতি থেমিস্টোক্লিসের হাত ধরে। এরপর এটি এশিয়া মাইনর (তুরস্ক) এবং সিসিলি হয়ে পুরো ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে। তুরস্কের জাতীয় খেলা বর্তমানে এই মোরগ লড়াই!   রোমানরা প্রথমে এই খেলাটিকে পছন্দ করত না। কিন্তু পরবর্তীকালে তারা এই খেলায় এতটাই মত্ত হয় যায়, যে তারা মোরগ লড়াইয়ের মাঠে বাজি ধরে তাদের সব সম্পত্তি নষ্ট করত! রোম থেকে ...

মহিষা গ্রামের জাগ্রত সর্পদেবী মা মনসা: কৃষি ও লোকবিশ্বাসের প্রাচীন ধারা (Awakened Serpent Goddess Ma Manasa of Mahisha Village: An Ancient Stream of Agriculture and Folk Belief)

Image
এই লেখাটি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মহিষা গ্রামের একটি খুব পুরোনো এবং জাগ্রত মন্দির নিয়ে, যা সর্পদেবী মা মনসার মন্দির নামে পরিচিত। এই মন্দিরে মানুষের বিশ্বাস অনেক গভীর এবং অনেক পুরনো। মন্দিরটি বেশিদিনের না হলেও এর পেছনের গল্প অনেক শতকের পুরনো। অনেক শত বছর আগে, এই জায়গাটা ছিল ঘন জঙ্গলে ঘেরা, মহিষা নামের একটি ছোট গ্রাম। এই গ্রামটি এখন জকপুর এবং মাদপুর রেলওয়ে স্টেশনের মাঝামাঝি রয়েছে। এই গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ ছিলেন কৃষক। ফসল ভালো হলেও, তারা সবসময় সাপের ভয়ে চিন্তায় থাকতেন। তাই সাপের হাত থেকে বাঁচতে তারা সর্পদেবী মা মনসার পূজা শুরু করেন। বিশেষ করে "শ্রাবণ" এবং "ভাদ্র" মাসে, তারা সাপের কামড় থেকে রক্ষা পেতে মঙ্গলবার ও শনিবার মায়ের পূজা করতেন। তারা শুধু সাপের ভয় কাটানোর জন্য নয়, ভালো ফসলের জন্য মা-কে 'কৃষিদেবী' হিসেবেও পূজা করতেন। একবার খুব ভালো ফসল হওয়ার পর, সব কৃষক মিলে মায়ের পূজা করার সিদ্ধান্ত নেন। তারা বনের একটি জায়গায় মায়ের পূজা শুরু করেন। প্রতি বছর ফসল কাটার পর, প্রত্যেক কৃষক তাদের ফসলের একটি আঁটি মাকে দান করতেন। ...